স্বাধীনতা তুমি

63
ছবি: সংগৃহিত
“স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল”
স্বাধীনতা।  এটা শুধুই একটা শব্দ নয়। শব্দটির সাথে আমাদের অনেক বেশী আবেগ জড়িত। বাংলাদেশের সেই সূচনা লগ্ন থেকে আজও মানুষের কাছে এই শব্দটা বড়ই চেনা।
সময়টা ছিলো ১৯৭১। পুরো দেশের মানুষের মনে তখন  স্বাধীনতার জন্য ছটফট। বাকি ছিলো শুধু একটা ঘোষনার অপেক্ষা। অবশেষে ২৬ মার্চ আজকের এই দিনে বহুল কাঙ্খিত সেই স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হলো।  সে ডাকে  তখন সারা দেশের প্রায় সকল শ্রেনীর মানুষ ঝাঁপিয়ে পরেছিলো এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনতা কে ঠিকই নিজেদের করে নিতে পেরেছিলাম। সেই থেকেই শুরু।
এর পর থেকে আজও আমাদেরকে নিজেদের স্বাধীনতা থেকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি। ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান, সামরিক সরকার থেকে শুরু করে যারাই আমাদের স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিলো তাদের সবাইকেই একসময় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। কারণ এ দেশের মানুষগুলো যে স্বাধীনতার পূজারী।
যখনই কোন বিষয়ে নিজেদের স্বাধীনতা যখন হুমকির মুখে পরে  সাথে সাথেই রাজপথে নিজেদের সেই দাবী আদায়ের জন্য  দেশের মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পরে। এর খুব বড় প্রমান আমরা দেখতে পাই “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ কে কোন কিছুতেই আর আবদ্ধ করে রাখা সম্ভব না।কারণ তারা যে রফিক, সালাম,বরকত, জব্বারের উত্তরসূরি, তারা যে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের উত্তরসূরি,  তারা যে বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি।
 এই যে এই স্বাধীনচেতা মন। এটা কি আমরা এমনি এমনিই পেয়েছি?  এই প্রসঙ্গ নিয়ে একটা গল্প না বললেই নয়।
১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আজাদ স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে যোগ দিলেন মুক্তি বাহিনীতে। সৃষ্টিকর্তা হয়তো চাইছিলেন এ আজাদ কে দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে তাই ভাগ্যের কারণে ধরা পরে গেলেন পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে। তার স্থান হলো রমনা থানায়।  পাগলের মতো থানায় ছুটে গেলেন আজাদের মা। দেখা হওয়ার পর আজাদ মাকে বললো ” মাগো। ভাত খেতে খুব ইচ্ছে করছে। ওরা ভাত দেয় না”।  সেই মা পরদিন ছুটে গিয়েছিলেন ভাত নিয়ে তার ছেলের জন্যে। কিন্তু তার ছেলেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। হত্যা করা হয়েছিলো আজাদ কে। ইতিহাস সাক্ষি, এই বাংলার জমিন সাক্ষি। সেই মা আরো ১৪ বছর বেচে ছিলেন কিন্তু বাকি জীবনে আর একবারের জন্যেও ভাত মুখে তুলেননি। যে ভাত তার সন্তান খেতে পারেনি সেই ভাত তার গলা দিয়ে আর নামেনি ।  আমরা সেই মায়ের সন্তান। এই মায়ের সন্তানেরা হাজারো কষ্ট সহ্য করতে পারে তবুও অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেনা।

এ দেশের প্রতিটি গলিতে গলিতে হাজারো স্বাধীনতার গল্প লেখা আছে।  এ গল্পগুলো কোন মনগড়া কল্পনা থেকে তৈরী করা হয়নি। এর প্রত্যেকটি গল্প আমাদের নিজেদের তৈরী করা। বিশাল অট্টালিকার নরম বিছানায় শুয়ে থাকা লোকটা আর কংক্রিটের রোডে ইট মাথায় যে লোকটা শুয়ে থাকে  তারা দু জনেই স্বাধীন। শুধু তাদের জীবনের গল্পগুলো ভিন্ন।
এ দেশ আমাদের গর্ব করার মতো অনেক কিছুই দিয়েছে। এখন আমাদের উচিত যথাযথ সম্মান রক্ষা করা। কারণ স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা অনেক বেশী কঠিন।
আজ যখন প্রিয় লাল সবুজে মোড়ানো পতাকার দিকে তাকাই আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে হাজারো মিছিলের শব্দ, হাজারো প্রতিবাদ,আন্দোলন,স্লোগান।
আহা স্বাধীনতা। তুমি ধন্য।