বিদায়ীকষ্ট নিয়ে মানুষের পাশে ৭৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

28
বিদায়ীকষ্ট নিয়ে মানুষের পাশে ৭৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরবিদায়ীকষ্ট নিয়ে মানুষের পাশে ৭৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর

হেমিলিওনের বাঁশিওলার মতো জনবন্ধুতে রূপ নিয়ে বিদায় নিচ্ছে ৭৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালম আজাদ। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে ব্যক্তিগত অর্থায়নে মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে মানবতার কাজ শুরু করলেও বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে ৭৪নং ওয়ার্ডবাসীর জন্য তিন দফায় সরকারী ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এসে সকলের মাধ্যমে তা বিতরণ করেন। বিদায়ের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে হাসিমুখে মানুষের বিপদে দিনরাত কাজ করে প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা সব কিছু নয়, ইচ্ছা শক্তিই বড়। রাতের আধারে নিজে বহন করে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে ঘরে ঘরে। এলাকা ঘুরে জানাযায়, আশেপাশের ওয়ার্ডগুলোর তুলনায় ৭৪ নং ওয়ার্ড বাসিন্দারা ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এমন কোনো মানুষ নেই যারা আবুল কালাম আজাদের কাছে সাহায্যের জন্য গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। প্রতিদিন মানুষের খোঁজ খবর রাখছেন আবুল কালম আজাদ। জরুরী গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হলে সরাসরি স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরীর সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন। যুবলীগের নেতা হিসেবে যুবকদের বড় একটি অংশকে মানসিক ও আর্থিকভকবে সহায়তা করে তাদের পামে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে বিগত দিনগুলোতে উঠান বৈঠকসহ সচেতনতামুলোক কাজ করেছেন নিয়মিত।
এদিকে, ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা করেছেন ব্যাপক। দল, মত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আবুল তালাম আজাদ। প্রতিদিন দুপুরে রান্না করা খাবার, ইফতার সামগ্রী, জরুরী সেবাসহ যাকে যেভাবে পারছে সাহায্য করছেন তিনি।
বিদায়ী কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কোন পদে কোথায় আছি বড় কথা নয়, মানুষের জন্য কাজ করবো এটাই বড় কথা। দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি, আমি দলের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন করিনি। এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা কেমন আপনারা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে রাজনীতি করার সময় নয়, আমি দায়িত্বে না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু পারি মানুষের পাশে সবসময় থাকবো।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে একটি বিচারে গেলে দুটি পক্ষকে নিয়ে বসতে হয়। বিচারটি কারো পক্ষে যাবে আবার কারো বিপক্ষে যাবে। তাই বলে বিচার যার বিপক্ষে যাবে সে খারাপ বলবে। এটা নিয়ে ভাবি নি। সততা ও নিষ্টা দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে তাদের পাশে থেকেছি। নেতৃত্ব আল্লাহর দান। ভাগ্যে যতোদিন জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করার ছিল, ততোদিন করেছি। কিছুটা কষ্টতো অবশ্যই আছে, হয়তো আরো কিছুদিন দায়িত্বে থাকলে একটি স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র করার পরিকল্পনা ছিল। আশা করবো যিনি এ দায়িত্বে আসবেন তিনি এ কাজ গুলো করবেন। আমার ভালো লাগে ৭৪ নং ওয়ার্ড সব সময় অবহেলিত ওয়ার্ড হিসেবে ছিল, নাগরিক সুযোগ সুবিধা তেমন ছিল না। আমি দায়িত্ব নিয়েই রাস্তা ঘাটের উন্নতি, মাদক প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ফুটপাত দখল মুক্ত করা, সামাজিকভাবে ওয়ার্ডবাসীকে সচেতন করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম করেছি। মশা নিধনে নিজে বাড়ি বাড়ি কীটনাশক নিয়ে ছিটিয়েছি। আল্লাহ্ আমার ওয়ার্ডবাসীসহ দেশের সকলে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুক, আমিন।