আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে: কীটতত্ত্ববিদ

0
আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে: কীটতত্ত্ববিদ
আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে: কীটতত্ত্ববিদ

গত কয়েকদিনে মশার উৎপাতে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসী। রাতদিন ২৪ ঘন্টা কয়েল জ্বালিয়েও কাজ হচ্ছে না। এর মধ্যেই একদল গবেষক মশার ঘনত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান যে, আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্ব রেকর্ড ছাড়াবে। তারা মূলত ঢাকায় মশার ঘনত্ব ও আগাম সতর্ক বার্তা নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মশার লার্ভা সংগ্রহ করে গবেষণা চালিয়েছেন তারা।

এদিকে গবেষক দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার গবেষণা সম্পর্কে বলেন, প্রথমে ঢাকায় মশা জন্মানো স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেখান থেকে মশা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারপরে সেটি ল্যাবে নিয়ে শনাক্ত করা হয়। এতে কিউলেক্স মশার লার্ভার ক্ষেত্রে প্রতি ৫০০ এমএল পানিতে মশার লার্ভা সংখ্যা গণনা করে ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহের জরিপে বেশির ভাগ কিউলেক্স মশার জন্মানোর স্থানে ঘনত্ব ২০০-এর ওপরে পাওয়া যায়। এছাড়া ড্রেন ও ডোবায় অগণিত ডিম দিয়েছে মশা। অনেক দিন ধরে কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় মশা জন্মানোর স্থানগুলোতে পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল বেড়েছে, যা কিউলেক্স মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ডিমগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হবে। যার কারনে অতি দ্রুত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে মশার জন্মানোর স্থানগুলোতে লার্ভিসাইড ছিটাতে হবে। নয়ত মার্চ মাসে মশার উৎপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মশার লার্ভার উপস্থিতি ব্রুটো ইনডেক্সের মাধ্যমে হিসাব করা হয়। গবেষণা জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০০ প্রজনন উেসর মধ্যে যদি বিশটি বা তার বেশি এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়, তাহলে সেটাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি’ বলা যায়।

গবেষণা জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে পরীবাগ ও শাহবাগ এলাকায় মশার ব্রুটো ইনডেক্স সবচেয়ে বেশি ২৬.৬৭ ছিল। এ ছাড়া বাসাবো-খিলগাঁওয়ে ১৩.৩৩, গুলশান-বনানীতে শূন্য, লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুরে ১০, শাখারীবাজার ও পাটুয়াটুলীতে ১৩.৩৩ ছিল। ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত গুলশান-বনানী এবং লালমাটিয়া-মোহাম্মদপুর এ দুটি অঞ্চলের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, গুলশানে ব্রুটো ইনডেক্স ২০ হয়েছে। লালমাটিয়ায় কমে ৬.৬৭ হয়েছে।

মশার প্রজাতি সম্পর্কে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা শহরে  ১৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। কিন্তু যে মশাটি সবচেয়ে বেশি সেটি হচ্ছে কিউলেক্স মশা। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই আমরা ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশারও  ঘনত্ব আমরা পেয়েছি। বর্তমানে ঢাকা শহরের ১০০ শতাংশ মশার মধ্যে ৯৫ শতাংশ হচ্ছে কিউলেক্স মশা।  তাই ড্রেন, ডোবা এবং নর্দমার পানি চলন্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লার্ভা মারার কীটনাশক স্প্রে করা এখন একান্ত জরুরি।